বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে নিকেলের দাম কমে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বৃহত্তম নিকেল সরবরাহকারী ইন্দোনেশিয়া আকরিক নিকেল উত্তোলন কমানোর কথা ভাবছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সরকারি একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
তথ্যানুসারে, চলতি বছর ইন্দোনেশিয়া নিকেল উত্তোলন কোটা ১৫-২০ কোটি টনের মধ্যে নির্ধারণ করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারির ধারণা, গত বছর দেশটি প্রায় ২৭ কোটি টন উত্তোলন কোটা অনুমোদন করেছিল।
ইস্পাত উৎপাদন ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যাটারির জন্য নিকেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। দুই বছরে বিশ্ববাজারে এর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমে প্রতি টনে প্রায় ১৬ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ ও ইভির চাহিদা বাড়ার ধীরগতিতে ধাতুটির দাম নিম্নমুখী হয়েছে। দামের পতনের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির বাইরে অনেক নিকেল খনি বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ উত্তোলকরাও মুনাফা সংকটে পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ত্রি উইনার্নো বলেন, ‘নিকেল উত্তোলনের পরিমাণ অভ্যন্তরীণ শিল্প ও রফতানি বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। উত্তোলনের পরিমাণ যেন ক্রমাগত ধাতুটির দামের পতনের কারণ না হয় এবং বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে নিকেল বাজারে ইন্দোনেশিয়ার প্রভাব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিবিএমআইর তথ্যানুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া গত বছর ২০ লাখ ২০ হাজার টন পরিশোধিত নিকেল উত্তোলন করেছে, যা বৈশ্বিক উত্তোলনের ৫৭ শতাংশ। চলতি বছর উত্তোলন ২৩ লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে, যা বৈশ্বিক উত্তোলনের ৬২ শতাংশ।